ব্রেকিং নিউজ
Home / প্রচ্ছদ / তিন বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি

তিন বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি

৫ জানুয়ারি ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের একবছর পূর্তিতে যে কোনো মূল্যে ঘুরে দাড়াতে এই মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে রয়েছে বিএনপি। ওইদিন ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালন করতে ঢাকায় তিনটি বিকল্প ভেন্যুর যেকোনো একটিতে পূর্বনির্ধারিত জনসভা করতে মরিয়া দলটি।

এজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতির পাশাপাশি নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকতে ‘গোপন ও কঠোর’ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে দলের কর্মপরিকল্পনায় তিনটি বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি।

এদিকে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বেইলি রোডে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যান। ১৫ মিনিট কমিশনার কার্যালয়ের অভ্যর্থনা কক্ষে বসে ছিলেন বিএনপির তিন নেতা। তারা হলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি। এ সময়ে এক প্রশসানিক কর্মকর্তা এসে তাদেরকে জানান, ‘বিশ্ব ইজতেমার কাজে কমিশনারসহ কর্মকর্তারা ব্যস্ত রয়েছেন। এ জন্য সাক্ষাৎ সম্ভব নয়।’

এর প্রেক্ষিতে ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবারের মতো আজও একই অবস্থা হয়েছে। আমরা ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারও দেখা পাইনি। অর্থাৎ আমরা এখনও সোমবারের জনসভার অনুমতি পাইনি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সেজন্য বারবার অনুমতির জন্য আসি। আমরা এখনও প্রত্যাশা করছি, অনুমতি পাব। অনুমতি না পেলে আমরা আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাব।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনের সড়ক অথবা মতিঝিলের শাপলা চত্বর-এই তিন স্থানের যে কোনো একটিতে জনসভার জন্য গত ২২ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে অনুমতি চেয়ে ডিএমপিতে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি জনসভা করার আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছে। কারণ ওইদিন সেখানে আওয়ামী লীগের জনসভা করবে। তাই বিএনপি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা ঘিরে সব কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছে।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি সফল করতে বিএনপি তিনটি বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে। প্রথমত, যে কোনো মূল্যেই নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চায় দলটি। সেখানে অনুমতি পাওয়া গেলে সরকারকে স্বল্পমেয়াদী আল্টিমেটাম দিয়ে সংলাপের আহ্বান জানাবেন খালেদা জিয়া। সেক্ষেত্রে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় লোকসমাগম ঘটাতে চায় দলটি।

দ্বিতীয়ত, অনুমতি না পেলেও পরিস্থিতি যাই হোক না কেন নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের আকস্মিক জমায়েত হয়ে রাজপথ দখলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওইদিন নয়াপল্টনে এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে থাকবেন খালেদা জিয়া। আর এজন্য সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর ও দলের শীর্ষ নেতাদের।

তৃতীয়ত, ২৯ ডিসেম্বরের মতো বিএনপি প্রধানকে বাসা থেকে বের হতে না দিলে গুলশানে তার বাসভবনের সামনেই অবস্থান নেবে নেতাকর্মীরা। সেখান থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন ও লাগাতার হরতালের ঘোষনা দেওয়া হবে।

দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি মাঠে থাকতে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডকে এরই মধ্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এই কর্মসূচিতে মাঠে থাকাই মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে স্থান পাওয়ার মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

মহানগর বিএনপি ছাড়াও ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থগিত করা হয় শুক্রবার সোহরাওয়ার্দীতে ছাত্রদলের সমাবেশ।

কেন্দ্র ছাড়াও দেশের সব মহানগর, জেলা ও উপজেলা নেতাদের ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক সতর্ক থাকতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘৫ জানুয়ারি ঢাকায় গণতন্ত্র হত্যা দিবসের সমাবেশ করব। অনুমতি দেবে কি দেবে না, তা সরকারের বিষয়। আমাদের যা করণীয়, তা আমরা করব।’

দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দৃঢ়তার সঙ্গে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আমরা বলতে চাই, ৫ জানুয়ারি আমরা কর্মসূচি করবই। আমরা বারবার অঙ্গীকার করছি, ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের জনসভা হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আমরা এ জনসভায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা চাই। অনুমতি না দিলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি দিতেই হবে। এ জন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে।’

One comment

  1. Moniruzzaman Badsha

    বিএনপি উপায়ান্তর না পেয়ে, শীর্ষ নেতারা মুখে মুখে বড় বড় কথা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মাঠে না নামায় কিছু যায় আসেনা।এটি একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।