ব্রেকিং নিউজ
Home / অপরাধ জগৎ / মার্চেই কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর!

মার্চেই কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর!

স্বাধীনতা দিবসের আগেই জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যীকর করতে চায় সরকার। একাধিক দ্বায়িত্বশীল সুত্র থেকে সরকারের এমন মনোভাবের কথা জানা গেছে।

সুত্রমতে, সরকার মনে করছে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যেকরের মাধ্যম একদিকে যেমন বিএনপির চলমান অবরোধ-হরতালকে যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর আন্দোলন হিসেবে চিন্হিত করতে পারবে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে।

এদিকে কামারুজ্জামানের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর মৃত্যু পরোয়ানা জারির জন্য তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

‘এরপর ট্রাইব্যুনাল কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠাবে। সেটা ট্রাইব্যুনাল আজও করতে পারে, কালও করতে পারে। ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠালে সরকারের পক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন দিতে কোনো অসুবিধা নাই।’

এরমধ্যে কামারুজ্জামান রিভিউয়ের জন্য আবেদন করলে মৃত্যুদন্ড কার্যযকর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। রিভিউ আবেদন মীমাংসা হওয়ার পর সরকার যেকোন সময় ফাঁসি কার্যবকর করতে পারবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ থেকে কামারুজ্জামান রিভিউ করার জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন।

আজ থেকেই ১৫ দিনের হিসাব শুরু হবে বলে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল দুইজন একই কথা বলেছেন।

যদি এই সময়ের মধ্যে কামারুজ্জামান রিভিউ করেন, তাহলে রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার পর রায় কার্যকর করতে পারবে সরকার। রিভিউ আবেদন না করলে ফাঁসি কার্যিকর করতে সরকারকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কামারুজ্মান শেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সময় পাবেন।

মত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজের রায়ে এসব কথা উল্লেখ করেছেন আপিল বিভাগ।

সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষ করতে ২০-২৫ দিন সময় লাগতে পারে। সেই হিসেবে ফেব্রুয়ারি মাসে যে কামারুজ্জামানের ফাসি কার্যরকর হচ্ছে না তা নিশ্চিত।

গত বছরের ৩ নভেম্বর বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস অপেক্ষার পর আজ কামারুজামানের ফাঁসির পূনাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।