লিখেছেন: এমদাদ রহমান
সমাজ আজ থেমে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে দাওলত খান বাবুলের জীবন, উত্তরাধিকার এবং অপরিমেয় প্রভাবকে—গ্রাসরুট ফুটবলের এক মহীরুহ, যার প্রভাব মাঠের ভেতরে ও বাইরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গড়ে তুলেছে।
১৯৮০-এর দশকে বার্নার এস্টেট থেকে বাবুল কেবল একজন স্থানীয় কোচ হিসেবেই নয়, বরং তার চেয়েও অনেক বড় কিছু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন একজন পরামর্শদাতা, সংগঠক, চালক এবং অর্থসহায়ক—অসংখ্য তরুণের জন্য একাই একটি সম্পূর্ণ সহায়তা ব্যবস্থা। তার তত্ত্বাবধানে যারা বেড়ে উঠেছে, তারা শুধু ফুটবল দক্ষতাই শেখেনি; বরং তারা পেয়েছে স্নেহ, সমর্থন ও অগাধ বিশ্বাস—প্রায়ই যাতায়াত, খাবার এবং উৎসাহ পেয়েছে কোনো প্রত্যাশা বা স্বীকৃতি ছাড়াই।
কমিউনিটির কল্যাণে তার অঙ্গীকার যুব উন্নয়নের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ‘অ্যাকটিভ ৫০ ক্লাব’-এর মাধ্যমে বাবুল বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে তারা সক্রিয়, সংযুক্ত এবং মূল্যবান অনুভব করতেন—স্বাস্থ্য, বন্ধুত্ব এবং দৃঢ় সামাজিক বন্ধনের বিকাশ ঘটাতেন।
ফুটবলে বাবুলের প্রভাব ছিল গভীর। ম্যানেজার এবং পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে তিনি বিষ্ণুনাথ দলকে অবমূল্যায়িত অবস্থা থেকে একটি শক্তিশালী দলে রূপান্তরিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে দলটি একাধিক গ্রেটার সিলেট উপজেলা কাপ জিতে নেয় এবং প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে।
তার বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় ফুটবল কাঠামোকেও নতুন রূপ দেয়; সোনালী ঐতিহ্যের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যে টুর্নামেন্টটি চালু করেছিলেন, তা পরবর্তীতে সিলেটসহ বিস্তৃত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছে।
দৃঢ় এবং আপসহীন নেতৃত্বের জন্য পরিচিত বাবুল তার নীতি ও কর্মনিষ্ঠার কারণে গভীরভাবে সম্মানিত ছিলেন। কোচিং, খেলোয়াড় সংগ্রহ বা অর্থায়ন—যে কাজই হোক না কেন, তিনি সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কোনো সিদ্ধান্ত কঠিন হলেও, তিনি যদি সেটিকে সঠিক মনে করতেন, তবে কখনো দ্বিধা করতেন না।
খেলোয়াড়ি জীবনেও তার উদ্দীপনা কখনো ম্লান হয়নি। ৫৩ বছর বয়সে তিনি সিলেট জেলা ওভার ৫০ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ঐতিহাসিক প্রথম জেলা কাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন, যা তার জীবনের অদম্য স্পৃহা ও দৃঢ়তারই প্রতিফলন।
ফুটবলের বাইরেও তার দাতব্য কাজ ছিল নিরবচ্ছিন্ন ও নিঃশব্দ। তিনি নীরবে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, আগ্রহী খেলোয়াড়, শিক্ষার্থী, এতিম ও বিধবাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সমাজে নেতৃত্বের ভূমিকায় এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন।
দাওলত খান বাবুলের উত্তরাধিকার শুধুমাত্র ট্রফি বা উপাধিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি যে হাজারো মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন, সেটিই তার প্রকৃত পরিচয়। তার প্রভাব বেঁচে থাকবে অনুপ্রাণিত মানুষদের মাঝে, শক্তিশালী হয়ে ওঠা কমিউনিটিগুলোর মধ্যে, এবং তিনি যে অমলিন চেতনা রেখে গেছেন তাতে।
তিনি কখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চাননি, প্রশংসাও প্রত্যাশা করেননি—শুধু সেবা করার, মানুষকে এগিয়ে নেওয়ার এবং তাদের প্রতি বিশ্বাস রাখার সুযোগটাই চেয়েছিলেন।
London Bangla A Force for the community…

